শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় দেবীনগর ইউনিয়নে মরা নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- মো. মাসুদের মেয়ে
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমছেই

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমছেই

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কমেছে। মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতায় ইরান ও কাতারের মধ্যে আলোচনা এবং প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে
আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে স্পট গোল্ডের মূল্য ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে যায়।
এই মুহূর্তের খবর :
আমরা ঘরে ঘরে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে চাই: আইনমন্ত্রী জামায়াত-এনসিপির লংমার্চে আওয়ামী লীগ ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে: রাশেদ খাঁন সরকারের ব্যর্থতা জনগণের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে এনসিপি: সারজিস চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১১৭০ নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব জনগণ বিএনপিকে দিয়েছে : পানিসম্পদ মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দক্ষ গড়তে এক্সট্রা কারিকুলামে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ‘দেশে ৮০ হাজার আইনজীবী থাকলেও মান নিয়ে সংশয় রয়েছে’ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমছেই আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম অনুমোদন পেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া, শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শর্ত ইরানের হতাশার মেঘ কাটলো মার্তিনেজের

মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় সিনিয়র নেতা ও টেকনোক্র্যাট

অনলাইন ডেস্ক / ৩৬ Time View
Update : August 15, 2026
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় সিনিয়র নেতা ও টেকনোক্র্যাট

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় ও সরকারি একাধিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য এই পুনর্গঠনে বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে এবং নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির সিনিয়র নেতা, মিত্র দলের প্রতিনিধি ও টেকনোক্র্যাট কোটার কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।

সরকার ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গত ছয় মাসে কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি—এমন আলোচনা সরকারে ও দলের ভেতরে রয়েছে। এ ছাড়া কিছু মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে দু-একজনের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ট্রল হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।

এসব কারণে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—এমন আলোচনা সরকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মন্ত্রিসভার ওই সদস্যদের কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন বলে সূত্রগুলোর দাবি। পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা নিজেদের পক্ষেও তৎপরতা চালাচ্ছেন।

একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পাওয়ার আশায় বিএনপি ও শরিক দলের অনেক নেতা সিনিয়র মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। কে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন, কোন কোন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হতে পারে—এসব জানার চেষ্টা চলছে। আগ্রহী নেতারা সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা, দলীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং রাজনৈতিক অবস্থান সামনে আনছেন। এ প্রক্রিয়ায় কেউ কেউ বর্তমানে মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গও টানছেন বলে জানা গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব তৎপরতা এখনো মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো আরও বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার আগে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। এ ছাড়া সংসদের সব হুইপ এবং দলের কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গেও তিনি পরামর্শ করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাই মির্জা ফখরুলের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে অনেকের ধারণা, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আগেও প্রধানমন্ত্রী একইভাবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এখন পূর্ণমন্ত্রীর পদ কার্যত খালি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাকে আনা হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এ আলোচনায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নামও ঘুরছে।

তবে এ বিষয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মন্ত্রিসভার রদবদল এবং তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে যে ধরনের খবর প্রচার হচ্ছে, তাতে তিনি বিব্রত।

সরকারি ও দলীয় নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রের দাবি, মিত্র দলের সংসদ সদস্য এবং বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। পাশাপাশি মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে।

একটি মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বর্তমানে যে তিনটি মন্ত্রণালয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও কথা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের মতে, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, এ অবস্থায় দু-একজন প্রতিমন্ত্রীর কাজ তুলনামূলকভাবে ভালো দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাঁদের কেউ কেউ পূর্ণ মন্ত্রীও হতে পারেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন করে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

একই সূত্রের দাবি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও দু-একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে।

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির ভেতরে ‘বঞ্চিত’ বলে পরিচিত একটি অংশও তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেও যথাযথ মূল্যায়ন পাননি—এমন নেতাদের নাম নতুন করে সামনে আসছে। এ তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, ঢাকার একজন মন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চলের দুজন প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা বেড়েছে। ফলে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাঁদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন এবং সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তির প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। দলীয় সূত্রের মতে, একদিকে কয়েকজন মন্ত্রীর কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে কিছু পদে শূন্যতা ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন—এই দুই কারণেই পুনর্গঠনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ের আলোচনা; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।


More News Of This Category