হরমুজ প্রণালি আবার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কমেছে। মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতায় ইরান ও কাতারের মধ্যে আলোচনা এবং প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় তেলের দামে এই লাগাতার পতন দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ৪৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৩১ ডলারে নেমে আসে।
সপ্তাহজুড়ে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। আগের দিন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শুক্রবার আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দরপতন হয়েছে।
তেলের বাজারে এই দরপতনের পেছনে হরমুজ প্রণালি ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বড় ভূমিকা রাখছে। মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ইরান। তবে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক শর্ত দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।
রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান। পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এটি স্বাভাবিকভাবে খুলে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আর সেই প্রত্যাশাতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে তেলের দামে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা