স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর দক্ষিণ সিটি কর্পোশনের ৬৩ নং ওয়ার্ডের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারের পদটি শুন্য থাকায় উক্ত শুন্যপদে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার নিয়োগের নিমিত্তে প্রস্তুতকৃত প্যানেলের দুইজন সদস্যের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠাই হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করা হয়, যাহার নম্বর ১৬৭৬১/২০২৫ইং, উক্ত রীট পিটিশনে আদেশে তিন মাসের জন্য স্থগিত আদেশ দেন। স্থগিত আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ৩০/১০/২০২৫ ইং তারিখে পূনঃতদন্তের আদেশ সন্দেহের ডালপালা উৎপত্তির রসদ জুগিয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল সূত্রটি।
ঘটনাটি ঘটেছে খোদ রাজধানীর ৬৩ নং ওয়ার্ডের কাজি নিয়োগের জন্য তৈরি প্যানেল নিয়ে, ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে ১১৬৬৪নং স্মারক ৬৩ নং মাতুয়াইল ওয়ার্ডের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার শুন্যপদে কাজি নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেল তৈরি করা হলে সেখানে দুই জন সদস্যের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।
উক্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, আইন ও বিচার বিভাগ এর বিচার শাখার-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব সাইদুজ্জামান শরীফ স্বাক্ষরিত চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারী প্ররিত চিঠির আদেশ বলে, ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রার মুনশী মোকলেছুর রহমান অভিযুক্ত প্যানেল সদস্য ইসমাইল আদনান এর বিরুদ্ধে আনিত সরেজমিনে তদন্ত কালে দালিলিক প্রমাণাদি দাখিল করতে না পারায় তিনি উক্ত ঠিকানার বাসিন্দা নন বলে পরিলক্ষিত হয় মর্মে মতামত প্রদান করেন। অপর প্যানেল সদস্য আবদুল কাদের পিতা-আবু সিদ্দিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৩ নং ওয়ার্ডের মাতুয়াইল পশ্চিমপাড়া, পোস্ট- মাতুয়াইল থানা- যাত্রাবাড়ী, ঢাকা। এর ঠিকানা ব্যবহার করে পূর্বের জন্ম নিবন্ধন এর পরিবর্তে নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে আবেদন করে ছিলেন কিন্তু তিনি সেখানের স্থায়ী বা অস্থায়ী বাসিন্দা নন, মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অনুসন্ধানে দেখাযায়,ইসমাইল আদনান আবেদনে যে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করেছেন, সেখানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই, উল্লেখিত ঠিকানার আশপাশের বাসিন্দারা তাকে কখনও ঐ এলাকায় বাস করতে দেখেনি। ফলে বাসিন্দাগত শর্তে তিনি অযোগ্য, আরেক প্রার্থী শরিফুল ইসলাম তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেশের বাইরে অবস্থান করেন। বিদেশে অবস্থান করে স্থায়ী ভাবে কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই অথচ তিনি প্যানেল ভুক্ত হয়েছে । তৃতীয় প্রার্থী আবদুল কাদের আবেদন ফরমে যে স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। এছাড়াও আবদুল কাদের এর নামে অনলাইনে দুইটি জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া গেছে, যা আইনগত ভাবে গুরুতর অপরাধ। তদন্ত চলাকালে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তন করে বাসিন্দাগত শর্তপূরণের চেষ্টা করেছেন, সেটা নিয়েও নানা রকম প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ত্রুটিপূর্ণ প্যানেলটিই তার বৈধতা হারিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাযায়, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্যানেলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়। অজ্ঞাত কারণে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে, গত ৩০/১০/২০২৫ইং তারিখে ৬৩ নং ওয়ার্ডের প্রস্তুকৃত প্যানেলের ১ নং ক্রমিকধারী ইসমাইল আদনান এবং ৩নং ক্রমিকধারী আবদুল কাদের এর বিরুদ্ধে আনীত বাসিন্দাগত অভিযোগ পুনঃতদন্ত করার জন্য সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আব্বাস উদ্দীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আব্বাস উদ্দীনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অফিসে আসেন, ফাইল টা দেখে কথা বলবো, পরের দিন দৈনিক প্রথম প্রহর এর প্রতিবেদক তার অফিসে গেলে তিনি বলেন, আমার সর্বোচ্চ বস আইন উপদেষ্টা সেটা নিশ্চয়ই জানেন, যা কিছু হয়েছে তা তার নির্দেশে হয়েছে। তারপর জানতে চাওয়া হয়, আপনি যে চিঠি ইস্যূ করেছেন, সেটা আদালত অবমাননার আওতায় পড়ে কিনা, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।