নতুন মৌসুমেও ঠিক ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না লিভারপুল। ঘরের মাঠে তো হারের শঙ্কাই জেঁকে বসেছিল অলরেডদের কাঁধে। নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়া ম্যাচে শেষদিকের গোলে সমতা ফিরিয়ে স্বস্তির এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিভারপুল।
শনিবাার (২৯ আগস্ট) প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল আর নটিংহ্যাম ফরেস্ট। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে ম্যাচ।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ– বল দখলে আধিপত্য দেখিয়েছে লিভারপুল। পুরো ম্যাচে ৬৯ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে গোরের জন্য ১৩টি শট নেয় লিভারপুল। যার মধ্যে ৪টি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বিপরীতে, ১২টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ফরেস্ট।
ছন্দ খুঁজে ফেরা লিভারপুল ম্যাচের শুরুতেই প্রায় গোলহজম করে বসেছিল। ১১তম মিনিটে ড্যান এনডোয়ের নেওয়া হেডার পাস থেকে ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকেই শট নিয়েছিলেন ইগর জেসুস, তবে লিভারপুল ডিফেন্ডার জ্যাকেটের গায়ে লেগে তা প্রতিহত হয়।
ম্যাচের ১৯তম মিনিটে আবারও সুযোগ পায় ফরেস্ট। জেমস ম্যাকাটির চমৎকার ক্রসে জয় গজ বক্সের বাম প্রান্ত থেকে একদম ফাঁকায় লাফিয়ে উঠে হেড করেন ড্যান এনডোয়ে। তবে তার হেডটি গোলপোস্টের ডান দিক ঘেঁষে সামান্য বাইরে চলে যায়।
৫ মিনিট পরে অবশ্য আর কোনোভাবেই ফরেস্টকে আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে একের পর এক আক্রমণের সুফল পায় সফরকারীরা। মরগান গিবস-হোয়াইটের চমৎকার ডিফেন্স-চেরা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাম প্রান্ত ধরে ভেতরে ঢোকেন এনডোয়ে। ডান পায়ের নিখুঁত কোনাকুণি শটে অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে একবার ফরেস্টের জালে বল জড়িয়েছিল উদযাপন করেছিল লিভারপুল। কিন্তু সেটি পূর্ণতা পায়নি। জেরেনি ফ্রিমপংয়ের পাস থেকে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ বল জালে পাঠালেও রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সাহায্য নেন। দীর্ঘ রিভিউ শেষে দেখা যায় আক্রমণের শুরুতে ফ্রিমপং সামান্য অফসাইডে ছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল হয়।
৩৯তম মিনিটে আরেকবার হতাশ হতে হয় লিভারপুলকে। কোডি গাকপোর মাপা ক্রসে বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত হেড করেন ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। তবে ফরেস্ট গোলরক্ষক ম্যাটস সেলস ক্ষিপ্রতার সঙ্গে পোস্টের ওপরের মাঝখান থেকে পাঞ্চ করে নিশ্চিত গোল থেকে দলকে রক্ষা করেন।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ে আরেকটি সুযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। ব্যবধান দ্বিগুন করার সুযোগ পেয়েছিল ফরেস্টও। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হয় জাল খুঁজে নিতে। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে লিভারপুল। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখাও পেয়ে যায় তারা। বাম প্রান্ত থেকে কোডি গাকপোর বাড়িয়ে দেওয়া কাটব্যাক ধরে ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন লিভারপুলের সুইডিশ ফরোয়ার্ড আলেক্সান্ডার আইজাক।
লিভারপুলের খুশি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে আবারও অ্যানফিল্ডকে স্তব্ধ করে এগিয়ে যায় ফরেস্ট। বক্সের ভেতর বল নিয়ে ঢুকে পড়া নেকো উইলিয়ামসকে ফাউল করে বসেন অ্যালিসন। এতে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট-কিকে ডান পায়ের নিচু শটে অ্যালিসনকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ফরেস্টকে ফের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মরগান গিবস-হোয়াইট।
পিছিয়ে পড়ে অলআউট আক্রমণে যায় লিভারপুল। ৭৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে বেশ কিছুটা দূর থেকে বুলেট গতির বাঁকানো শট নেন বদলি নামা গ্রীক ডিফেন্ডার কোস্টাস সিমিকাস। তবে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক সেভে বল পোস্টের বাম কোণ থেকে বের করে দেন ফরেস্ট কিপার সেলস।
ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে ডমিনিক সোবোসলাইয়ের বক্সে বাড়ানো উচু ক্রসে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়ে যান আইজাক। তবে তার বাঁ পায়ে নেওয়া শট পোস্টের বাম দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়।
হারের প্রহর গুনতে থাকা অ্যানফিল্ডে স্বস্তি ফেরে ম্যাচের ৮২তম মিনিটে। লিভারপুলকে সমতায় ফেরান মুনিয়োজ। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের থ্রু পাস ধরে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে ভিক্টর মুনিয়োজের নেওয়া ডান পায়ের নেওয়া জোড়ালো কোণাকুণি শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।
এরপর ৮৬তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় লিভারপুল। জয়সূচক গোল এনে দেওয়ার সুযোগ ছিল সোবোসলাইয়ের সামনে। তবে তার ডান পায়ের নিচু ফ্রি-কিকটি পোস্টের সামান্য ডান দিক দিয়ে বাইরে চলে গেলে ২-২ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।