রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমিয়ে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী! ২০২৬ সালে কী ঘটতে চলেছে?

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী! ২০২৬ সালে কী ঘটতে চলেছে?

নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং বিশ্বজুড়ে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বুলগেরিয়ার অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার নাম। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ
নেপালে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, দেশে ফিরে যা বললেন অপু বিশ্বাস

নেপালে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, দেশে ফিরে যা বললেন অপু বিশ্বাস

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটিতে শুটিংয়ে থাকা ঢাকাই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস
এই মুহূর্তের খবর :
ম্যাচে শেষের গোলে হার এড়াল লিভারপুল গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পলাতক খুনিদের ফেরত দিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে : রাশেদ খাঁন এনসিপি অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করবে না: সারজিস আলম ঢাকার যানজট নিরসনে একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৬ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার উন্নয়নে একে অপরের অংশীদার হওয়ার আহবান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো’ একাত্তরের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে দেশ বিনির্মাণে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট গঠন, তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি সার রয়েছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী গুম-খুন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখপ্রকাশ বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়তে পারে দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দামে বড় পতন

মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় সিনিয়র নেতা ও টেকনোক্র্যাট

অনলাইন ডেস্ক / ৩৯ Time View
Update : August 15, 2026
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় সিনিয়র নেতা ও টেকনোক্র্যাট

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় ও সরকারি একাধিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য এই পুনর্গঠনে বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে এবং নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির সিনিয়র নেতা, মিত্র দলের প্রতিনিধি ও টেকনোক্র্যাট কোটার কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।

সরকার ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গত ছয় মাসে কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি—এমন আলোচনা সরকারে ও দলের ভেতরে রয়েছে। এ ছাড়া কিছু মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে দু-একজনের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ট্রল হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।

এসব কারণে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—এমন আলোচনা সরকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মন্ত্রিসভার ওই সদস্যদের কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন বলে সূত্রগুলোর দাবি। পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা নিজেদের পক্ষেও তৎপরতা চালাচ্ছেন।

একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পাওয়ার আশায় বিএনপি ও শরিক দলের অনেক নেতা সিনিয়র মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। কে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন, কোন কোন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হতে পারে—এসব জানার চেষ্টা চলছে। আগ্রহী নেতারা সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা, দলীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং রাজনৈতিক অবস্থান সামনে আনছেন। এ প্রক্রিয়ায় কেউ কেউ বর্তমানে মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গও টানছেন বলে জানা গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব তৎপরতা এখনো মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো আরও বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার আগে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। এ ছাড়া সংসদের সব হুইপ এবং দলের কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গেও তিনি পরামর্শ করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাই মির্জা ফখরুলের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে অনেকের ধারণা, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আগেও প্রধানমন্ত্রী একইভাবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এখন পূর্ণমন্ত্রীর পদ কার্যত খালি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাকে আনা হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এ আলোচনায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নামও ঘুরছে।

তবে এ বিষয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মন্ত্রিসভার রদবদল এবং তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে যে ধরনের খবর প্রচার হচ্ছে, তাতে তিনি বিব্রত।

সরকারি ও দলীয় নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রের দাবি, মিত্র দলের সংসদ সদস্য এবং বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। পাশাপাশি মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে।

একটি মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বর্তমানে যে তিনটি মন্ত্রণালয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও কথা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের মতে, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, এ অবস্থায় দু-একজন প্রতিমন্ত্রীর কাজ তুলনামূলকভাবে ভালো দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাঁদের কেউ কেউ পূর্ণ মন্ত্রীও হতে পারেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন করে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

একই সূত্রের দাবি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও দু-একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে।

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির ভেতরে ‘বঞ্চিত’ বলে পরিচিত একটি অংশও তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেও যথাযথ মূল্যায়ন পাননি—এমন নেতাদের নাম নতুন করে সামনে আসছে। এ তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, ঢাকার একজন মন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চলের দুজন প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা বেড়েছে। ফলে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাঁদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন এবং সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তির প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। দলীয় সূত্রের মতে, একদিকে কয়েকজন মন্ত্রীর কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে কিছু পদে শূন্যতা ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন—এই দুই কারণেই পুনর্গঠনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ের আলোচনা; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।


More News Of This Category