ব্যবসায় মন্দা আর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প-কারখানা সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘ হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে সংকটের প্রভাবে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একইসঙ্গে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার গতিও কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখার পাশাপাশি সুরক্ষা দিতে হবে নিম্নআয়ের মানুষকে।
দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তায় বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারেও।
চলমান এ সংকট দীর্ঘ হলে সবচেয়ে বড় চাপ আসতে পারে শ্রমবাজারে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংঘাত না হলে চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার যে সম্ভাবনা ছিল সংকটের প্রভাবে তা নেমে আসতে পারে প্রায় ৫ লাখে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাস মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শঙ্কা আরও বাড়তে পারে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, সংকটের সময়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চেয়ে বিদ্যমান কর্মসংস্থান ধরে রাখাই বেশি জরুরি। তাই শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউট- এর সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্রুত নিতে হবে স্বল্পমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে কর্মসংস্থান ও নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষায়।
ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ মনে করেন, কর্মসংস্থান ধরে রাখা, শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা এই তিন ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে বৈশ্বিক সংকটের বড় ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।