সুপার ওভার তখন আর দূরে নয়। শেষ ওভারের তিন বল শেষ, ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির দরকার ১ রান, বাংলাদেশের দরকার ২ উইকেট। প্রথম বলেই রান আউট টড মার্ফি। পরের দুই বলে কোনো রান নেই। ১০১ রানের লক্ষ্যটা হঠাৎ করেই বাংলাদেশের নাগালে চলে এসেছিল।
তারপর লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড। চতুর্থ বলটি কাট করে পয়েন্টের পাশ দিয়ে চার। সঙ্গে সঙ্গে শেষ বাংলাদেশের স্বপ্ন। দুই বল হাতে রেখেই ১ উইকেটের জয় ভিক্টোরিয়ার, আর ফাইনালের দরজা বন্ধ বাংলাদেশ হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের সামনে!
অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে এই নাটকয়ি জয়ে ফাইনালে উঠল ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জয়ী বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল বিদায় নিল শেষ চার থেকে!
যদিও শেষটা এমন হওয়ার কথা ছিল না! লিগ পর্বে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়! টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। ফাইনালের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই সেমিফাইনালে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১০১ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর পুরো ম্যাচটাই পরিণত হয় বোলারদের লড়াইয়ে। সেই লড়াই বাংলাদেশকে প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিল, শেষ মুহূর্তের একটি চার শুধু সব হিসাব পাল্টে দিল।
ডারউইনে আজ ব্যাটিংয়ে অবশ্য শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। হাবিবুর রহমান সোহান ৩ রান করে ফিরলেও জিসান আলম ও আরিফুল ইসলাম পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৬ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ৫৬ রান। আরিফুল ১০ বলে ১৯, জিসান ২০ বলে ৩০ রান করে মনে হচ্ছিল বড় স্কোরের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছেন।
কিন্তু সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই জিসানের বিদায়ের পরই শুরু ধস! আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। সাব্বির রহমান ৮ বলে ৫, অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর গোল্ডেন ডাক। শামিম পাটোয়ারিও ব্যর্থ। শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও আবু হায়দার রনির ছোট দুটি ইনিংস বাংলাদেশকে কোনোভাবে তিন অঙ্কে পৌঁছে দেয়। ১৭.১ ওভারে অলআউট হয় ১০১ রানে।
ভিক্টোরিয়ার হয়ে উইল সাদারল্যান্ড নেন ৪ উইকেট।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভিক্টোরিয়া শুরু থেকেই পুরোপুরি স্বস্তিতে ছিল না। তবে ৪ উইকেটে ৭৫ রান তুলে ফেলায় জয় তখন তাদের হাতের মুঠোয়। বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরাতে প্রয়োজন ছিল দ্রুত উইকেট।
সেখানেই শুরু রুবেল-শামীমদের পাল্টা আঘাত। পরের ২৪ রানের মধ্যে চার উইকেট তুলে নিয়ে ভিক্টোরিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামায় বাংলাদেশ। মোহাম্মদ রুবেলের রহস্য স্পিনে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট। শামীম হোসেন নেন ২টি। আবু হায়দার রনি ৪ ওভারে দুটি মেডেনসহ ১৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।
শেষ ওভারে গিয়ে ম্যাচের সমীকরণ দাঁড়ায়-ভিক্টোরিয়ার ১ রান চাই, বাংলাদেশের ২ উইকেট!
প্রথম বলেই রান আউট। দ্বিতীয় বল ডট। তৃতীয় বলও ডট! সুপার ওভারের গন্ধ তখন গার্ডেন ওভালে। কিন্তু ব্ল্যাকফোর্ডের ব্যাটে সেই সম্ভাবনারও মৃত্যু হলো। চতুর্থ বলে পয়েন্ট দিয়ে চার, আর ভিক্টোরিয়ার ফাইনাল নিশ্চিত।
ক্যাম্পবেল ক্যালাওয়ে ২৩ রান করে ভিক্টোরিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ অবদান রাখেন। তবে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রান দুটি এসেছে ব্ল্যাকফোর্ডের ব্যাট থেকেই-শেষ ওভারে জয় এনে দেওয়া চারটিই হয়ে উঠল পার্থক্য।
বাংলাদেশের জন্য সান্ত্বনা হতে পারে রুবেলের দুর্দান্ত টুর্নামেন্ট। ৭ ম্যাচে ২৩ উইকেট, ছয় ম্যাচেই অন্তত তিন উইকেট। কিন্তু ক্রিকেটে শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডই কথা বলে।
১০১ রান থেকে বাংলাদেশ লড়াইটা শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়েছিল। ফাইনাল থেকে তারা শেষ পর্যন্ত দূরে ছিল মাত্র একটি চার। সেই চারটিই এবার বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের শেষ শব্দ!