হাসান মোর্শেদ দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আসন্ন দুর্গাপূজা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উপলক্ষে সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সকল ধর্মের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, কার্বারী-হেডম্যানসহ সামাজিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. এবি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন,“পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে বহু জাতি, বহু ধর্ম ও বহু সংস্কৃতির মিলনমেলা। এ বৈচিত্র্যের মধ্যেই আমাদের শক্তি লুকিয়ে আছে। তাই সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করাই আমাদের সবার দায়িত্ব। আসন্ন দুর্গাপূজা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো গুজব বা উসকানি ছড়ানোর চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় উৎসব কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সবার আনন্দ-উৎসব। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে উৎসবগুলোকে সফল করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সকল মণ্ডপ ও ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি মনিটরিং, টহল বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি সবাইকে সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রেখে সম্প্রীতির উদাহরণ স্থাপনের আহ্বান জানান।
সভাটির সভাপতিত্ব করেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইনামুল হাছান। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ দীঘিনালা শাখার সাধারণ সম্পাদক নন্দশ্রী ভান্তে, সনাতন সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিঠু চৌধুরী, দীঘিনালা কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা জামানুল হাসান জামিল, কার্বারী প্রতিনিধি হেমাব্রত চাকমা, হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সত্রেন্দ্রীয় চাকমা, বাজার চৌধুরী জেসমিন চাকমা, কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা (জ্ঞান), বিএনপি দীঘিনালা শাখার সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, দীঘিনালা জোন প্রতিনিধি জনি মোল্লা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদারসহ আরও অনেকে। বক্তারা আসন্ন উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।