আসাদুজ্জামান বাবুল : পতিত স্বৈরাচারের দোসর সড়ক ও জনপদ বিভাগ খেকো রানা বিল্ডার্সের মালিক মোহম্মদ আলম এখন রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের ঝটিকা মিছিলের ডোনার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর নজরদারির আওতায় এনে তদন্ত করা জরুরি। এই মোহাম্মদ আলম স্বৈরাচার শেখ হাসিনার লুটপাটের অন্যতম সহযোগী ও তার অর্থ সম্পদের পাহারাদার!
অনুসন্ধানে জানাযায়, গত ১৭ বছরে হঠাৎ করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া মোহম্মদ আলমদের মতো শতশত ব্যক্তি তৈরি করেছে ফ্যাসীস্ট আওয়ামী লীগ, দ্রুত এদের কে আইনের আওতায় আনা না হলে তাদের কাছে থাকা অবৈধ অর্থ ব্যবহার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ জুড়ে চরম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে দেশকে ধ্বংসের দাড়প্রান্তে নিয়ে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য অপতৎপরতা চালাবেন। যার কিছু কিছু আলামত ইতিমধ্যেই ঢাকাবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। অংকুরেই এদের থামিয়ে দিতে না পারলে ২৪শের সকল শহীদের রক্ত বিফলে যাবে এবং জাতিকে গোলামির জিঞ্জির পড়তে বাধ্য হবে।
বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে ১৭টি বছর বাংলাদেশ সড়ক বিভাগের পুরো নিয়ন্ত্রণ রেখে কাজের ভাগাভাগি করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করেছে, যে ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার মধ্যে অন্যতম হলো রানা বিল্ডার্স, এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানাযায়।
রানা বিল্ডার্সের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর নামে শতাধিক ব্যাংক একাউন্ট গত ১০ থেকে ১৫ বছর পরিচালিত হলেও আয়কর রিটার্ন ফাইলে দেখানো হয়েছে মাত্র ২টি একাউন্ট পরিচালনা করা হয়।
রানা বিল্ডার্সের নামে থাকা সকল ব্যাংক একাউন্ট এনবিআর (সেন্ট্রল ইন্টেলিজেন্স সেল) কর্তৃক সকল অপারেশান বন্দ করেন ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তারিখে এবং ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট তারিখে ব্যাংক একাউন্ট গুলো এনবিআর (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স) কর্তৃক পূণরায় চালু করার জন্য অনুমতি প্রদান করে। প্রশ্ন হলো ৫আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলো, প্রকৃতপক্ষে দেশে কোনো সরকার নেই, ৮ আগস্ট একটি অর্ন্তবর্তি কালীন সরকার গঠন হলেও ঐঅর্থে দেশে কোনো প্রতিষ্টান ফাংশনাল ছিলো না, সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে ধ্রুত মোহম্মদ আলম জাদুর কাঠির মাধ্যমে তার বন্দকৃত শতাধিক ব্যাংক একাউন্ট পুর্নরায় চালু করে শতশত কোটি টাকা উত্তোলন করে নিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন বলেও জানাগেছে। রানা বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহম্মদ আলম তার ঘনিষ্ঠ জনদের কাছে প্রকাশ করেছেন ১০কোটি ঘুষ এবং কিছু জরিমানার বিনিময়ে ব্যাংক একাউন্ট গুলো চালু করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রানা বিল্ডার্সের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর নামে প্রতি বছরে হাজার কোটি টাকার কাজ করেন অথচ ২০২৩/২০২৪ অর্থ বছরে ২টি একাউন্টের লেনদেনের হিসাব অনুযায়ী দেখিয়ে আয় দেখিয়েছেন ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা প্লাস এবং আয়কর দিয়েছেন ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা প্লাস। অথচ বাকি শতাধিক ব্যাংক একাউন্টের লেনদেনের হিসাব করলে বেড়িয়ে আসবে কত শতকোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। আরো জানাযায়, মোহাম্মদ আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য এফডিআর মেনটেইন করে আসছেন যেগুলো কখনোই আয়কর রিটার্ন ফাইলে দেখানো হয়নি।
ধানমন্ডি, রোড নং-৮/এ, প্লট নং-৫০, জমির পরিমান-২০ কাঠা। এই হোল্ডিং নাম্বারে ২০ কাঠা জমির উপর ১৬ তালা বিল্ডিং সম্পূর্ণ কাজ শেষ পর্যায়ে। আমাদের জানা মতে কোনো ব্যাংক লোন নেওয়া হয়নি এবং নিজেই একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি বানিয়ে নিজেই এগ্রিমেন্ট চুক্তির কাগজ তৈরি করে রেখেছেন এনবিআর কে বোকা বানানোর জন্য।
মোহম্মদ আলম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা আয়কর রিটার্ন ফাইলে প্রদর্শিত হয় নাই এমন সম্পদ ও ব্যবসা বানিজ্য, যেমন খোদ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়, পূর্বাচল আবাসিক এলাকায়, উত্তরা আবাসিক এলাকায়, কল্যাণপুর, মিরপুরসহ ঢাকা শহরে ৪৫-৫০টার উপরে বাড়ী এবং কুমিল্লা সদর ও চাঁদপুর নিজ জেলায় নামে বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, এসব সম্পদের মধ্যে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অদৃশ্য মালিকনা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে এখন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের ঝটিকা মিছিলকারীদের অর্থ যোগান দিতে বাধ্য হচ্ছে বলে মোহম্মদ আলমের ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এসব বিষয়ে খোঁজখবরের জন্য রাজধানীর সড়ক ভবনে কর্মকর্তাদের সাথে আলাপে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন বিগত সরকারের সময় রানা বিল্ডার্সর মালিক এর চেহারার দিকে চেয়ে কথা বলার কোনো ক্ষমতা কারো ছিলো না, তাদের ইচ্ছা মতো সড়ক ও জনপদ ভবনের কর্মকর্তাদের চলতে হয়েছে। সচেতন মহলের অভিমত দুদক ও রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার গুলোর উচিৎ দ্রুত তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা তা না হলে এয়ারপোর্টে, মিরপুর, চট্রগামের মতো আরো বহু জায়গায় আগুনের দৃশ্য দেখতে হতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের সময় যতো এগিয়ে আসবে এই সমস্ত পতিত স্বৈরাচারের দোসররা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ( দ্বিতীয় পর্ব)