অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ঢাকা ক্লাবের সভাপতি শামীম হোসেনসহ সেখানকার চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন চাকরিচ্যুত এক কর্মী। গত মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ক্লাবের সাবেক ‘অ্যাটেন্ডেন্ট’ আশিক মোল্লা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, “আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।”
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—ডাইরেক্টর (ফাইন্যান্স) তুহিন রেজা, সিও ও সচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছাব্বির আহম্মেদ ও চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) ইকবাল হোসেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আশিক মোল্লা ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকা ক্লাবে ‘অ্যাটেন্ডেন্ট’ পদে যোগদান করেন, যা স্থায়ী হয় পরের বছরের ১৯ অগাস্ট। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর গত ২৬ জানুয়ারি ‘চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে’ তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়। এর চয় মাস বাদে ২৭ জুলাই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এজাহারে বলা হয়, সার্ভিস বেনিফিট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, নোটিস পে ও বকেয়া বেতন বাবদ ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওনা ছিল আশিক মোল্লার। পাওনা টাকা না পেয়ে বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১২৪(ক)-এর (৫) ধারায় মধ্যস্থতার আবেদন জানান। তবে আসামিরা নোটিস পেয়েও উপস্থিত না হওয়ায় শ্রম পরিদর্শক বাদীকে লিখিত ছাড়পত্র দেন।
ছাড়পত্র পাওয়ার পর ১৫ অগাস্ট বাদী ঢাকা ক্লাবে গেলে আসামিরা তাকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৮১ টাকার একটি চেক দেন। তবে বাকি তিন লাখ ৭৩ হাজার ১৯ টাকা অস্বীকৃতি জানান তারা।
সেই টাকা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আসামিরা আশিককে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।