কানাডা এখন যেসব মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করবে, তার অনেকগুলোই নতুন মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডার রপ্তানির অনুরূপ। বিশেষ করে পোশাক, বনজ পণ্য, সরঞ্জাম ও স্মার্টফোনসহ ইলেকট্রনিক পণ্য এর মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ডিশওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন ও চুলার মতো দামি ভোক্তা পণ্যও কানাডার নতুন শুল্কের আওতায় পড়ছে। হিমায়িত ও তাজা—দুই ধরনের বিভিন্ন মাছও রয়েছে তালিকায়।
নতুন কানাডীয় শুল্কের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের আমদানির ওপর পড়বে। নতুন মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডীয় রপ্তানির মূল্যও প্রায় একই পরিমাণ। ওয়াশিংটনে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের ডলারের বিনিময়ে ডলার’ জবাব দেবে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই পদক্ষেপ কানাডীয়দের ব্যয় বাড়াবে।
মঙ্গলবার কার্নি নিজে শুল্ক ঘোষণার দায়িত্ব কয়েকজন মন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেন এবং তার সরকারি কর্মসূচিতে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান ছিল না। তবে বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে অবহিত করেন।
বাণিজ্য আলোচনায় বড় একটি বিরোধের বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ গাড়ি শুল্ক। কানাডার অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য গাড়ির ওপর প্রায় ১৮ মাস আগে এই শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে যত গাড়ি পাঠায়, তার চেয়ে বেশি গাড়ি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে।
কানাডা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির ওপর তাদের পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশই থাকবে। পাশাপাশি কানাডায় গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দেয়া হবে।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাড়ির ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করার হুমকি দেন। এমন শুল্ক আরোপ হলে কানাডার গাড়ি কারখানাগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কানাডায় উৎপাদিত গাড়ির ৯০ শতাংশের বেশি রপ্তানি করা হয় বিদেশে।
কানাডা বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২৭২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। কানাডীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, শুল্ক থেকে যে অর্থ আদায় হবে, তার চেয়ে কানাডীয় রপ্তানিকারকদের ব্যবসা সচল রাখতে সরকার অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করবে। সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তারা বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য রাজস্ব সংগ্রহ নয়, কানাডীয় নির্মাতাদের সুরক্ষা দেয়া।
কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জলি বলেন, শুল্কের তালিকায় থাকা কিছু পণ্য এমন অঙ্গরাজ্যকে লক্ষ্য করে বেছে নেয়া হয়েছে, যেখানে ভোটাররা ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। তবে তিনি অঙ্গরাজ্যগুলোর নাম জানাননি। তিনি বলেন, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ও খাদ্যপণ্য এর মধ্যে রয়েছে।
অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, কানাডার অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ১২ ভাগের এক ভাগ হওয়ায় দেশটির পাল্টা শুল্ক একটি অসম যুদ্ধে খুবই সীমিত প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদের মতে, পাল্টা শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বাড়লে কানাডীয় কোম্পানিগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি।